বাড়িতে শুরু করতে পারবে এই ব্যবসা! প্রতিদিন ১৫০০ টাকা আয়। – Mushroom Farming Business

Mushroom Farming Business: ব্যবসা একটি স্বনির্ভর আয়ের জায়গা, যেটি অনেকেই করে থাকেন আবার কারোর স্বপ্ন অনেক সময় সেভাবে সত্যি হয় না। সারা ভারতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের অনেক মানুষ এই বর্তমানে ব্যবসা করে থাকেন। বর্তমানে চাকরি বা অন্য ব্যবসার পাশাপাশি লোকে আরো বেশ কিছু ব্যবসা নিজের (Personal Business) পুঁজি অনুযায়ী করে থাকেন।

ব্যবসা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে বড় ব্যবসা, মাঝারি ব্যবসা বা ক্ষুদ্র ব্যবসা, অনেকে কুটীর শিল্প (Cottage industry) কেও কেউ ব্যবসা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে ব্যবসা করার জন্য যে ঝুঁকি নিতে হয়, সেটি সবার ক্ষেত্রে নেওয়া সম্ভব হয় না।

তবে অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে খুব অল্প বিনিময় করেও একটা ছোট জায়গার মধ্যে প্রথমে একটি ব্যবসা ছোট করে শুরু করেও সেটি একটি বড় ব্যবসায় পরিণত করা যায়, তবে সে ক্ষেত্রে সময় লাগে এবং নিজেকেও সময় দিতেও হয়।

আপনি যদি চান তাহলে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা বাড়িতে বসে প্রতিদিন রোজকার হয় এরকম ব্যবসা করতে পারেন। এরকম অনেক ব্যবসাই আছে তার মধ্যে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবসা হল মাশরুম চাষ করা। আপনার বাড়িতে যদি অল্প জায়গা থাকে বা অনেকে কোন একটি ঘরকে ফার্মহাউসের (Mushroom Farm house) বানিয়ে নিয়ে এই চাষ যথেষ্ট সফলতার সঙ্গে করছেন এবং বেশ ভাল রকম আয় করছেন। কারণ বর্তমানে মানুষের খাদ্য তালিকার মধ্যে অন্যতম ভাবে যারা করে নিয়েছে মাশরুম।

মাশরুম শুধু মানুষের দৈনন্দিন খাবারের কাজে লাগে তা নয় মাশরুম থেকে অন্যান্য দ্রব্যাদিও তৈরি হয় যেমন ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে। এই ব্যবসা ক্ষেত্রে গ্রামীণ উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসছেন, যা তাদের ক্ষেত্রে যথেষ্ট লাভের মুখ দেখাচ্ছে এবং এটি একটি বিকল্প হিসেবেও গড়ে উঠেছে।

কেন বর্তমানে মাশরুম চাষ এত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে?

মাশরুম প্রচন্ড পুষ্টি সম্পন্ন একটি খাবার। ‌ এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন (Protin), ভিটামিন (Vitamin), মিনারেলস (Minerals), অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Anti-oxidant) ভরপুর পরিমাণে আছে যেটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ করতে এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও যথেষ্ট উপকারী।

মাশরুমের শ্রেণীবিভাগ এবং কোনটি বেশি লাভজনক জেনে নিন

মাশরুম কি চার ভাগে ভাগ করা হয় সেগুলি হল- বাটন মাশরুম (Button Mushroom), ওয়েস্টার মাশরুম (Oyster Mushroom), মিল্কি মাশরুম (Milky Mushroom) এবং সিটাকে মাশরুম (Shiitake Mushroom)।

এদের মধ্যে বাটন ও মিল্কি মাশরুমের বাজার যথেষ্ট ভালো এবং আধুনিক ব্যবসায়ী যথেষ্ট এগিয়ে আছে। এর জন্য আধুনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার এবং বেশ কিছু খরচও আপনাকে করতে হবে।

Read More:- গুগল থেকে মাসে ৫০ হাজার আয়! ঘরে বসেই করতে পারবে এই কাজ।

অপরদিকে ওয়েস্টার মাশরুমের চাষ করতে খরচ তুলনামূলক অনেক কম যত্ন তুলনামূলক কম নিতে হয় যা যথেষ্ট সহজ সাপেক্ষ তার ওপর গ্রামীণ পরিবেশের মধ্যে এটি ভালো উৎপাদিত হয়।

তাই যারা ভাবছেন এই ব্যবসায় এগোবেন তাদের ক্ষেত্রে ওয়েস্টার মাশরুম একটি ভালো উপায়।

কিভাবে চাষ এবং ব্যবসা শুরু করবে?

প্রথমে আপনাকে একটি ১০ ফুট x ১০ ফুট অন্ধকার ও ঠান্ডা ঘর নির্বাচন করতে হবে। আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখলে ফলন ভালো হয়।

এই চাষের জন্য লাগবে মাশরুম বীজ, পলিপ্রোপিলিন ব্যাগ, ধান বা গম বা সয়াবিনের তুষ বা খোসা লাগে, জলের স্প্রে দিতে হয়, আর্দ্রতা উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করা অতি অবশ্য প্রয়োজন।

যে ঘরে এই চাষ করা হয় সেটি যেমন অন্ধকার হতে হবে তার সঙ্গে যে ব্যাগগুলি ব্যবহার করতে হয় তার তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকা প্রয়োজন এবং আর্দ্রতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রাখতে হয়।

মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই সাদা মাইসেলিয়াম দ্বারা ব্যাগটি ভরে যায়। এই পদ্ধতিকে ইনকিউবেশন বলে।

এরপর ফসল গুলিকে সংগ্রহ করতে হয় তার জন্য মাইসেলিয়াম পূর্ণ ব্যাগগুলিকে আলো ও বাতাসযুক্ত স্থানে আনতে হয়।

তারপর কয়েকদিনের মধ্যেই সেখান থেকে মাশরুম বের হবে এবং ব্যাগ থেকে ফসল গুলিকে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া ছাড়া তুলে নিতে হয়। ‌

এইভাবে মাশরুমের ফলন সম্পন্ন হয়।

ইনভেস্টমেন্ট

এখানে একটি আনুমানিক হিসাব দেওয়া হল যেটি উদ্যোগকারীকে বিনিয়োগ করতে হবে।

যদি জায়গাটি নিজের হয় তাহলে প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগ খুব কম আপনাকে করতে হবে যেমন মাশরুম বীজের ২০ কেজির জন্য খরচ পড়বে ২৪০০ টাকা।

ধানের তুষ জোগাড় করতে খরচ আনুমানিক তিন হাজার টাকা এবং দড়ি ব্যাগ ও অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য মোটামুটি ২০০০ টাকা খরচ পড়বে।

অন্যান্য খরচ হিসাবে ২০০০ টাকা ধরে রাখতে হবে। এইভাবে মোট বিনিয়োগ ৬০০০ থেকে ৭০০০ টাকা করলেই আপনার স্বপ্নের ব্যবসার প্রাথমিক ক্ষেত্রটি তৈরি হয়ে যাবে।

আয় কত হতে পারে?

ওয়েস্টার মাশরুমের বাজারদর বর্তমানে প্রতি কেজিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

যদি আপনি প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কেজি মাশরুম উৎপাদন করতে পারেন তাহলে আপনার দৈনিক আয় হবে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা, সে হিসাবে প্রত্যেক মাসে আয় হবে ৪৫০০০ থেকে ৬০০০০ টাকা।

যেখানে আপনার মোট খরচ বাদ দিয়ে নেট মুনাফা হবে ৩০০০০ থেকে ৩৫০০০ টাকা পর্যন্ত।

এটি একটি আনুমানিক হিসাব এর থেকে বেশিও আয় করতে পারেন, সেটি নির্ভর করছে উৎপাদন, বাজার ইত্যাদির ওপর।

কিভাবে ও কোথায় মাশরুম বিক্রি করবে?

দ্রব্য বিক্রির জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্র হতে পারে যেমন স্থানীয় বাজার হাট থেকে শুরু করে, যদি আপনি কোন হোটেল রেস্তোরার সঙ্গে কথা বলে রাখেন তাহলে শেখানো প্রতিদিন যোগান দিতে পারেন।

সরাসরি অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে আপনার দ্রব্যটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন কারণ বর্তমানে অনলাইনে খুব ডেলিভারি অ্যাপগুলি যথেষ্ট সক্রিয় হয়ে উঠেছ, তার মাধ্যমে আপনি সরাসরি নিজের দ্রব্যটি অর্ডার সংগ্রহের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

শুকনো মাশরুম ও পাউডার ও আপনি বিক্রি করতে পারেন।

ব্যবসায় সফলতার কিছু টিপস

ব্যবসাটি শুরু করার আগে কিছুদিন ভালো কোন প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোক্তা থেকে প্রশিক্ষণ নিন বিষয়টি সম্বন্ধে ভালো করে জানুন।

সমস্ত বিষয়টি জানার পর স্থান নির্বাচন করুন যেখানে আপনি দ্রব্য উৎপাদন করবেন অবশ্যই যেন জায়গাটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়।

কম পুুঁজি দিয়ে কম করে উৎপাদনের মাধ্যমে ব্যবসাটি শুরু করুন। তারপর ধীরে ধীরে চাহিদা অনুপাতে ব্যবসাটি বাড়ানোর চেষ্টা করুন।

ব্যবসা শুরুর আগেই ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মার্কেট ধরার চেষ্টা করুন।

সর্বোপরি বলা যায়, মাশরুম চাষ এখন একটি যথেষ্ট জনপ্রিয় একটি ব্যবসা যেখানে কম পুঁজি লাগে অল্প সময়ের মধ্যে আপনি ব্যবসাটি দাঁড় করাতে পারবেন।

শুধু কিছু ব্যবসায়িক বুদ্ধি ও কৌশল আপনাকে ব্যবহার করতে হবে। দ্রব্যটি উৎপাদনের ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখতে হবে এবং মার্কেটিং ভালো হবে করলেই আপনার ব্যবসা কিছুদিনের মধ্যেই দাঁড়িয়ে যাবে।

কারণ এটি একটি খাদ্যদ্রব্য যে যার চাহিদা দিনে দিনে বাড়ছে এর চাহিদা গ্রাম শহর নিবি শেষে হোটেল রেস্তোরায় যথেষ্ট চাহিদা আছে।

তাই কম পুঁজি দিয়ে ব্যবসাটি শুরু করে নিজের ব্যবসা নিজে করার ক্ষেত্রে উদ্যোগী হন।

Bengal Hood

Bengal Hood হলো একটি বিশ্বস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম! যেখানে আমরা বিনামূল্যে চাকরির আপডেট, অনলাইন আয়ের উপায় ও স্কিল টিপস শেয়ার করি। ৬ বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা আপনাকে দিই সঠিক সুযোগ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য।

Leave a Comment