Jio Loan Apply 2025:- মানুষের নিত্যদিনে অর্থের প্রয়োজন বিভিন্ন দিকে হয়ে থাকে। মানুষ চাকরির পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসা বা অনেকেই বিশেষত ব্যবসায়ী হিসাবেই জীবিকা নির্বাহ করেন।
প্রতিটি মানুষের জীবনে অনেক সময় হঠাৎই বেশ কিছু পরিমাণে টাকার প্রয়োজন বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পড়ে যায়। তখন জীবিকা নির্বাহ করে সংসার চালানোর জন্য যে অর্থ নিয়মিত ভিত্তিতে রোজগার করে সেখান থেকে সেটি দেওয়া সম্ভব হয় না, কারণ মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রত্যেকের জীবনে অর্থের আয়ের উপর ভিত্তি করে ব্যয় নির্ধারিত থাকে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত একালিন বেশ কিছু অর্থ দরকার পড়লে সেটি বার করা তার পক্ষে খুব সমস্যা জনক হয়ে পড়ে।
সে ক্ষেত্রে একমাত্র পথ হলো লোন (Loan) নেওয়া। কিন্তু মধ্যবিত্তের ক্ষেত্রে লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা থাকে।
ব্যাংক থেকে একমাত্র লোন পাওয়ার সহজ উপায় থাকে কিন্তু সেক্ষেত্রে পদ্ধতিগত বিষয়ের মধ্য দিয়ে যেতে অনেকটা সময় লেগে যায়, তার ওপর উপযুক্ত নথি প্রমাণ না থাকলে লোন পাওয়াটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এক্ষেত্রে একটি অভিনব সুযোগ এনে দিয়েছে জিও টেলিকম কোম্পানি (Jio Telecom Company)। সংস্থা তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে যদি আপনি জিওর গ্রাহক হন তাহলে MyJio App থেকে কয়েকটি মাত্র ধাপের মধ্য দিয়েই আপনি ৫০০০০ টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অতি সহজে লোন পেতে পারেন।
জিও লোন পেতে গেলে কি করতে হবে দেখে নিন
Jio Loan একটি অনলাইন পার্সোনাল লোন (Online personal loan) হিসাবে উপলব্ধ। এটি কেবলমাত্র Jio র স্থায়ী গ্রাহকদের জন্য রাখা হয়েছে। খুব সহজে সামান্য কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে এই Loan খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়।
যে লোনের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, আসুন সেগুলো জেনে নি
এই লোন সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় আবেদনের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।
ব্যাংকে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই আপনার।
Read More:- আগস্ট মাসে এই ৫টি ব্যবসা শুরু করুন। কোনো পুঁজি লাগবে না।
মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সরাসরি আপনার ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে আপনার আবেদন করা টাকাটি লোন হিসাবে আপনি পেয়ে যাবেন।
সহজ কিস্তিতে ইএমআই (EMI) এর মাধ্যমে লোন পরিশোধ করা যাবে।
কি কি শর্ত মানলে এই লোনের জন্য আবেদন করা যাবে?
Jio Loan পেতে হলে আবেদনকারী কে অবশ্যই কিছু শর্ত মানতে হবে সেগুলি হল-
আবেদনকারী কে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
বয়স থাকতে হবে ১৮ থেকে ৫৭ বছরের মধ্যে।
তার সঙ্গে Jio sim অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে, অর্থাৎ Jioর পূর্ববর্তী গ্রাহকরাই এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীর Credit score কমপক্ষে ৭৫০ হতে হবে।
এই লোনের জন্য আবেদন করতে গেলে আবেদনকারীর ন্যূনতম মাসিক আয় ১৫ হাজার বা তার বেশি হতে হবে।
আবেদনকারীকে চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী বা যে কোন পেশায় যুক্ত থাকতে হবে।
যে সমস্ত জিও ব্যবহারকারী উপরিউক্ত শর্তগুলি পালন করবেন তারাই তাদের প্রয়োজনে ৫০০০০ টাকা থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন হিসাবে পেতে পারেন তবে তা নির্ভর করছে ব্যক্তির আয়ের পরিমাণ প্রাইভেট স্কোরের উপর এবং Jio র অভ্যন্তরীণ অফিসারদের যাচাই এর মাধ্যমে বাছাই করা ব্যক্তিরাই এই সুবিধা পাবেন।
এই লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার কত হবে তা জেনে নিন
লোন তো নিচ্ছেন কিন্তু সুদ আপনাকে দিতে হবে আসলের সঙ্গে।
এই লোন নিলে বার্ষিক ৮.২% হারে সুদ গুনতে হবে, যেটি প্রাথমিক হিসাব।
কারণ সুদের পরিমাণ নির্ভর করবে লোন কতটা নিচ্ছেন এবং কত সময় ধরে আপনি লোন পরিশোধ করছেন তার ওপর। অর্থাৎ যত বেশি সময় ধরে আপনি লোন পরিশোধ করবেন, তত বেশি হারে আপনাকে শোধ গুনতে হবে, কারণ সেটি বাজার দরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
জিও তে লোন নিলে কি সুবিধা?
এতে লোন নিলে খুব কম সময়ের মধ্যে, ব্যাংকের জটিল পদ্ধতি উপেক্ষা করে কেবলমাত্র কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করে প্রয়োজনীয় টাকা হাতে পাওয়া যাবে।
এছাড়াও EMI এর মাধ্যমে সহজ কিস্তিতে লোন শোধ করা যাবে। এর উপর সুদের হার ও ব্যাংকের সুদের হারের তুলনায় বেশ কিছুটা কম।
জিও তে লোন নেওয়ার জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে জেনে নিন
এই লোন পাওয়ার জন্য গ্রাহককে MyJio App ডাউনলোড করে স্মার্ট ফোনে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে।
এরপর জিও নম্বর দিয়ে নির্দিষ্ট পোর্টালে লগইন করে লোন সেকশনটি সিলেক্ট করতে হবে।
এরপর ভালোভাবে লোনের অফারগুলি দেখে উপযুক্তটি বেছে নিতে হবে।
এই ওয়েবসাইটে কি কি আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়েছে তা যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে।
যে সমস্ত ডকুমেন্ট আপলোড করতে বলা হয়েছে, যেমন – আধার কার্ড, প্যান কার্ড, স্যালারি স্লিপ, তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি ইত্যাদি, নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী আপলোড করতে হবে।
আবেদন পত্রের সমস্ত তথ্য গুলি যথাযথভাবে ফিলাপ হয়েছে কিনা সেটি ভালোভাবে দেখে নিয়ে ফর্মটি সাবমিট করতে হবে।
এরপর সাইটে চোখ রাখতে হবে আবেদনটি অ্যাপ্রুভ হওয়া পর্যন্ত এবং দু-তিন দিন পর অ্যাকাউন্ট চেক করলে, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে আপনার আবেদন করা লোনের টাকাটি পেয়ে যাবেন।
টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন সেটি দেখে নিন
জিও লোনটি পরিশোধ করার ক্ষেত্রে ইএমআই এর সুবিধা আছে যার মেয়াদ ১২ মাস থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
EMI এ কত টাকা করে প্রত্যেক মাসে আপনাকে দিতে হবে তা নির্ভর করছে আপনি কত লোন নিয়েছেন এবং কত সময় ধরে এম আই এর মাধ্যমে পরিশোধ করবার অপশন নিয়েছেন তার উপর।
তবে সতর্কতা হিসেবে বলা হচ্ছে যে লোন নেওয়া মোটেও ভালো কাজ নয়, কারণ এককালীন টাকা কোন সংস্থা থেকে নিলে সেটি পরিশোধ করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বেশ কিছুটা টাকা সুদ হিসাবে আপনাকে বহন করতে হবে তার উপর লোন থাকলে এমনিতেই মানুষের মধ্যে একটি চাপ তৈরি হয়।
তাই এটি বলা ভালো যে প্রত্যেক মাসে আয় থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা যদি সঞ্চয় হিসাবে আপদে-বিপদে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে রাখা যায় তাহলে নিজের টাকায় অসময়ে ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে কারণ থেকে লোন নেওয়ার অথবা অতিরিক্ত টাকা বহন করার প্রয়োজন পড়বে না।
শেষে বলা যায় যে, টাকার সঞ্চয় করে রাখলেও যদি তার থেকে বেশি পরিমাণে এককালীন টাকার দরকার হয় তখন সঞ্চিত টাকা সেই সমস্যা এড়ানোর জন্য যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে লোন ই একমাত্র ভরসা। তা না হলে সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাওয়া যায় না। এই অসময়ে মানুষকে সাহায্য করার এত সহজ পদ্ধতিতে হাতটি বাড়িয়ে দিয়েছে, জিও সংস্থা। এটি সাধারণ মানুষের প্রতি সংস্থা তরফ থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।