আগস্ট মাসে এই ৫টি ব্যবসা শুরু করুন। কোনো পুঁজি লাগবে না। – Business Idea in August

Business Idea in August:- ভারত একটি কৃষি প্রধান দেশ এখানে বারোমাস ই কৃষকরা বিভিন্ন ঋতু অনুযায়ী বিভিন্ন ফসল চাষ করে, যা দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা যোগান করে এবং অতিরিক্ত ফসল বিদেশে রপ্তানি করে বিদেশী মুদ্রা (Foreign Money) অর্জনের পথ সুগম করে।

ভারত বর্ষার বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে প্রধানত ফসল ফলায়। আগস্ট বর্ষা ঋতুর অন্তর্গত একটি মাস। এই সময় ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা প্রধান ফসল হিসাবে ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে থাকেন।

কারণ এই সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে জল থাকে তার সঙ্গে তাপমাত্রা ও যথেষ্ট থাকে আলাদা করে সেচ কার্য চালাতে হয় না। ফলে চাষের খরচ অনেকটা কম হয়ে থাকে।

Business Idea in August
Business Idea in August

দেশের মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা যেমন বাড়ছে তাই দিনে দিনে বাজারে সবজি ও অন্যান্য দানাশস্যের চাহিদাও বাড়ছে। তাই কম সময়ের মধ্যে বেশি পরিমাণ চাষ করা যায় বা অল্প সময়ে দ্বিগুণ মুনাফা যাতে পাওয়া যায় তার জন্য চাষিরা বিভিন্ন রকম ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

অনেকে তো আবার ব্যক্তিগতভাবে বাড়ির ছাদে বা বাগানে (Roof Top Garden/ Terrace Plantation) নিজেদের চাহিদা মত অল্প পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে নিচ্ছেন।

এই প্রতিবেদনে আগস্ট মাসে কোন কোন ফসল চাষ করলে বেশি মুনাফা হবে সেই সম্বন্ধে আলোচনা করা হলো।

আগস্ট মাসের চাষ করলে কেন বেশি লাভ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?

আগস্ট মাসে যেহেতু বর্ষার জল যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায় তাই জলের অভাবজনিত সমস্যাগুলি হয় না বা সেচের জন্য অতিরিক্ত খরচ হয় না।

এই সময় চাষ করলে কিসের ফসলের সঙ্গে শীতের ফসলো কিন্তু একই জমিতে চাষ করা সম্ভব হয়। ফলে সারা বছরই জমিতে কিছু না কিছু চাষ করা যাবে এবং তার সঙ্গে এই বর্ষা সমতেও চাষ করলে কৃষকের লাভ হবে।

যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণতার দ্রুত থাকার জন্য গাছ দ্রুত বাড়বে ফসলের পরিমাণে ভালো হবে অন্যান্য রোগ প্রকার আক্রমণ কম হবে, হলে ফসলের ফলন ভালো হবে।

বেশি ফসল উৎপাদন হলে স্থানীয় বাজারে বা হাটে অথবা যেখানে ফসলের চাহিদা আছে, সেখানে যদি উপযুক্ত পরিমাণে দেওয়া যায়, তাহলে অতিরিক্ত টাকাও পাওয়া যাবে, তার সাথে নিজেদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

১) পালং শাক

এই ফসলটি আগস্ট মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চাষ করা যেতে পারে। ফসল মাত্র ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে গোনা যায় এবং সারা বছরই পালং শাকের চাহিদা থাকে।

আগস্ট মাসে যেহেতু জলের প্রাপ্যতা থাকে তাই একটু উঁচু জায়গায় চাষ করলে বৃদ্ধি যথেষ্ট ভালোভাবে হবে, তাই প্রতিদিন ফসল বাজারে বিক্রি করার সুযোগ থাকে। এই ফসল গ্রীষ্ম এবং শীত দুই ঋতুতেই ভালো হয়।

এই ফসল ফলানোর জন্য আনুমানিক খরচ ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা এবং সম্ভাব্য আয়ের পরিমাণ ১৮ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

২) মেথি চাষ

এই ফসলটি আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে ফলে এটিও কুড়ি থেকে ২৫ দিনের মধ্যে বেড়ে যায় এবং এর পাতা বিক্রি করা যায়।

মেথি পাতার সুগন্ধ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে দেয় তাই এর চাহিদা খুব বেশি। বাড়ি থেকে শুরু করে রেস্তোরা সব জায়গাতেই খাবারের আস্বাদন বাড়ানোর জন্য এর ব্যবহারের প্রচলন আছে। এই ফসল অল্প জায়গার মধ্যে চাষ করা সম্ভব।

অল্প পরিমাণে চাষ করলেও এর ব্যবহার কম পরিমাণে করলেও খাদ্যের আস্বাদন বজায় থাকে তাই চাহিদা মত বাজারে যোগান দেওয়া যায়।

এই ফসলটি চাষ করার ক্ষেত্রে আনুমানিক খরচ পাঁচটা থেকে ৭ হাজার এবং সম্ভাব্য আয়ের পরিমাণ হতে পারে ১৫০০০ থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

৩) মুলো চাষ

মুলো চাষের সময় হলো আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে।

এই ফসল মাত্র 40 থেকে 50 দিনের মধ্যে বেড়ে যায় এবং বাজারজাত ও করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।

এই ফসলটির চাহিদা বারোমাসি বাজারে থাকে তবে শীতের আগে যদি এই ফসল চাষ করা যায় তাহলে ভালো দাম পাওয়া যায়। কারণ শীতে এই ফসলের চাহিদা সবথেকে বেশি হয়।

এটি প্রধানত শীতের ফসল হিসাবেই পরিচিত।

এই ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে আনুমানিক খরচ ৭ হাজার থেকে নয় হাজার টাকা এবং সম্ভাব্য আয় কুড়ি হাজার থেকে ত্রিশ হাজার টাকা পর্যন্ত।

৪) গাজর চাষ

আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই ফসলের সময়।

এই ফসল বাজারে পাঠানো উপযোগী করার জন্য ৭০ থেকে ৮০ দিন সময় লাগে।

সারা বছরই এই ফসলের চাহিদা বিপুল থাকে তবে শীতের সময় এর বাজারমূল্য সব থেকে বেশি থাকে। লাভের দিক থেকে এই ফসল সবথেকে শীর্ষে আছে।

এই ফসলটি পুষ্টিগত দিক থেকে যেমন গুণমান সম্পন্ন তেমনি যে কোন খাবারে এর ব্যবহার প্রচলিত।

এতে সম্ভাব্য খরচ ৮০০০ থেকে ১২ হাজার টাকা এবং আয়ের পরিমাণ ২৫০০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

৫) ধনেপাতা

এই ফসল সারা বছরই চাষ করা যায় তবে আগস্ট থেকে নভেম্বরের চাষ ভালো হয়।

এই ফসলটি প্রস্তুত হতে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগে।

এই ফসলটি চাহিদা সবসময় এবং সারা বছরই শীর্ষে থাকে কারণ যে কোন রান্নায় এই ফসলটির ব্যবহার প্রায় অবধারিত।

খাবারের অসাধারণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এর জুড়ি মেলা ভার।

গৃহস্থালী থেকে শুরু করে যে কোন দোকান বাজারে খাবার দোকান এমনকি রেস্তোরাঁ সব জায়গাতেই এর প্রচলন অবধারিত।

মানুষ নিজের বাড়িতে ও ছাদে অথবা এক হালি জমিতে এমনকি ঝুড়ির মধ্যেও এটি ফলাতে পারে।

এই ফসলটি ফলানোর সবচেয়ে সহজ এবং দ্রুত ও বেশি পরিমাণে উৎপাদিত হয়, তাই লাভও খুব ভালো করা যায়।

এই ফসলটি ফলানোর ক্ষেত্রে আনুমানিক খরচ হতে পারে পাঁচ হাজার টাকা থেকে সাত হাজার টাকা এবং সম্ভাব্য আয় হতে পারে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

চাষের জন্য জমি এবং মাটি কিভাবে প্রস্তুত করবেন?

সাধারণত বেলে- দোআঁশ, দোআঁশ মাটিতে যেকোনো চাষ সবথেকে ভালো হয়।

জমিতে আগাছা সময়মতো পরিষ্কার করতে হয়, তার সঙ্গে উপযুক্ত পরিমাণে জল, জৈব সার ইত্যাদি উদ্ভিদের পুষ্টি যথোপযুক্ত পরিমানে যদি সরবরাহ করা যায় তাহলে ফসল ভালো হয়।

যখন বৃষ্টির জল থাকবেনা তখন ফসলের ধরন এবং  তাতে জলের চাহিদা অনুযায়ী জলের সরবরাহ করতে হয়।

ফসল বিক্রয় ও মার্কেটিং স্ট্রাটেজি

ফসল চাষ করা হয় তার থেকে আয় করার জন্য, তার সঙ্গে নিজেদের প্রয়োজনীয় চাহিদাটা যাতে পূরণ করা যায় তার জন্য।

ফসলের উপর ভিত্তি করে যদি আয় করতে হয় অর্থাৎ ব্যবসায়ী হিসেবে আপনি ফসলগুলিকে বেছে নেন তাহলে মার্কেটিং (Marketing) সম্বন্ধে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে।

যে ফসলগুলি আপনি উৎপাদন করছেন সেটি যেন আপনার কাছাকাছি মার্কেটের চাহিদা অনুযায়ী হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।

তবে এখানে যে পাঁচটি ফসল পলানোর কথা বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের যেকোনো জায়গায় তার যথেষ্ট চাহিদা আছে।

তাই সময়মতো ফসল পরিপক্ক উপযুক্ত পরিমানে হলে আপনার লোকাল মার্কেট বা বড় বাজারে নিজে বিক্রি করলে বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব।

তবে যদি বেশি উৎপাদন হয় তাহলে পাইকারি ব্যবসায়ীকে ফসল দিতে পারেন এতে আপনার সময় এবং শ্রম দুটোই বাঁচবে।

যদি কাছাকাছি হোটেল রেস্তোরায় কথা বলতে পারেন তাহলে প্রত্যেকদিন সরাসরি সেই জায়গাতেই ফসল পাঠিয়ে দিন ও প্রতিদিন মোটা আয় করতে পারবেন।

এখন অনলাইনের যুগে যদি নিজের একটি অ্যাপ তৈরি করতে পারেন অথবা সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার দ্রব্যটি সম্বন্ধে মানুষের কাছে সেটি পৌঁছে দিতে পারেন তাহলে অনলাইনের মাধ্যমিক আপনার দ্রব্যটি বিক্রি হবে বেশি টাকায়। তবে সে ক্ষেত্রে আপনাকে কাস্টমারের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

সবশেষে বলা যায় যে, বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের চাহিদার ধরন পরিবর্তন হওয়ার জন্য সারা বছরই বিভিন্ন ফসলের চাহিদা কম বেশি থাকে।

আবার অনেকে নিজের থেকেও নিজের মতো করে নিজের শখে বা বাড়ির প্রয়োজনে নিজের মতো করেই ফসল ফলিয়ে নেয়। কম হলেও সেটি কিছুটা পরিমাণে অর্থের সাশ্রয় করে।

ঋতু অনুযায়ী যদি ফসলের চাষ করা যায় তাহলে সেটা থেকে বেশি মনে হওয়া অর্জন করা সম্ভব।

Bengal Hood

Bengal Hood হলো একটি বিশ্বস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম! যেখানে আমরা বিনামূল্যে চাকরির আপডেট, অনলাইন আয়ের উপায় ও স্কিল টিপস শেয়ার করি। ৬ বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা আপনাকে দিই সঠিক সুযোগ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য।

Leave a Comment