ব্যাঙ্কে এবার ৫০ হাজার টাকা মিনিমাম ব্যালেন্স রাখতে হবে! নতুন নিয়ম চালু। — Minimum Balance

Bank Account Minimum Balance Rules:— প্রত্যেকটি ব্যাংকের গ্রাহকরা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পয়সার লেনদেন থেকে শুরু করে ব্যাংকের বিভিন্ন স্কিমের মাধ্যমে টাকা জমানোর সুযোগ পায়। ব্যাংকে একাউন্ট দুই প্রকার – সেভিংস একাউন্ট এবং কারেন্ট একাউন্ট।

প্রত্যেকটি অ্যাকাউন্ট এর ক্ষেত্রেই ন্যূনতম পরিমাণ টাকা জমা রাখতেই হয়। এই পরিমাণ বিভিন্ন ব্যাংকের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে একরকম নিয়ম এবং বেসরকারি বা প্রাইভেট ব্যাংকের ক্ষেত্রে অন্যরকম নিয়ম ধার্য আছে।

এছাড়াও সরকারি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির ক্ষেত্রেও গ্রামীণ ব্যাংক এবং শহরে ব্যাংকের ক্ষেত্রেও দুই রকম নিয়ম লাগো আছে। গ্রামীণ ব্যাংক গুলির ক্ষেত্রে ন্যূনতম টাকার পরিমাণ শহরের ব্যাঙ্কগুলির তুলনায় বেশ কিছুটা কম রাখা হয়।

এই প্রতিবেদনে সেই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো। কোন ব্যাংকের ক্ষেত্রে কি নিয়ম চালু হয়েছে এবং সেই ন্যূনতম পরিমাণ টাকা না রাখলেই বা কি হবে তা জেনে নিন।

ICICI ব্যাঙ্ক

যারা ICICI ব্যাংকের (ICICI Bank) গ্রাহক তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম ১ আগস্ট থেকে লাগু হয়েছে যে, তাদের একাউন্টে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা রাখতেই হবে। তা না হলে এর উপর ভিত্তি করে জরিমানা ধার্য হবে।‌

মধ্যবিত্তের কাছে ৫০ হাজার খুবই বড় অংকের একটি টাকার পরিমান। তাদের নিত্যদিনের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত টাকা হিসাবে ব্যাংক একাউন্টে এই পরিমাণ টাকা ফেলে রাখাটা খুবই সমস্যা জনক। তারা এই পরিমাণ টাকা সেভিংস একাউন্টে না রেখে বেশিরভাগ মানুষই পছন্দ করবেন যদি ব্যাংকে রাখতেই হয় তাহলে ফিক্সড (Fixed Deposit) করে দিতে কিংবা অন্য কোন স্কীমের মধ্যে জমা রাখতে।

Read More:— এবার বই খুলে পরীক্ষা দিতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা! ২০২৬ এ নতুন নিয়ম চালু।

কারণ, সেভিংস অ্যাকাউন্টে (Savings Account) সুদের পরিমাণ খুবই কম আর এই পরিমাণ টাকা মধ্যবিত্তের কাছে যথেষ্ট বড় অংকের একটি টাকা যা শুধু শুধু ব্যাংকের সেভিংস একাউন্টে রেখে কম ইন্টারেস্ট (Interest Rate) পাওয়া তাদের ক্ষেত্রে সত্যিই অলাভজনক একটি সিদ্ধান্ত।  অনেক গ্রাহকের কাছে এই টাকাটি যথেষ্ট বড় অ্যামাউন্টের (Big Amount) হওয়ায় তারা নিজেদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে।

কিন্তু ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম এই পরিমাণ টাকাটি না রাখলে ব্যাংকের সুবিধা থেকে তারা অসুবিধাতেই পড়বেন কারণ ব্যাংকে মানুষ টাকা রাখে তার থেকে টাকা বাড়ানোর একটি উপায় হিসেবে কিন্তু অ্যাকাউন্টের গ্রাহক হয়েও সুদ পাওয়ার পরিবর্তে জরিমানা (Penalty) স্বরূপ তার একাউন্ট থেকেই টাকা কেটে নিলে সেটি মধ্যবিত্ত তথা নিম্নবিত্তের কাছে যথেষ্ট চিন্তার বিষয়।

শুধু মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত নয় অনেক উচ্চবিত্ত মানুষের কাছেও এই পরিমাণ টাকাটি শুধু শুধু ব্যাংকের সেভিংস একাউন্টে রেখে দেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সেই ক্ষেত্রে বলা যায় ব্যাংকে নতুন এই সিদ্ধান্ত গ্রাহক পরিষেবার ক্ষেত্রে ঋণাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে  বেশিরভাগ গ্রাহকদের মন্তব্য।

ICICI ব্যাংক (ICICI bank) একটি প্রাইভেট ব্যাংক (Private bank) হওয়ার জন্য এখানে গ্রাহকদের পরিষেবা যথেষ্ট ভালোভাবে দান করা হয়ে থাকে যেটি সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ব্যাংক গুলির ক্ষেত্রে ততটা সুবিধা গ্রাহকরা পান না। আবার অনেক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মীদের কাছ থেকে দুর্ব্যবহারের রিপোর্টও পাওয়া গেছে।

অনেক পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক অপেক্ষাও করতে হয় সরকারি ব্যাংকগুলি থেকে। কিন্তু প্রাইভেট ব্যাংক গুললিতে খুব কম সময়ের মধ্যে এই ধরনের পরিষেবা পাওয়া যায়। তাই অনেক গ্রাহক সরকারি ব্যাংক থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে প্রাইভেট ব্যাংকে করেছেন অথবা অনেকে দুই ধরনের ব্যাংকেই তাদের গ্রাহক হিসাবে নাম নথিভুক্ত করে রেখেছেন।

যেহেতু প্রাইভেট ব্যাংক গুলিতে পরিষেবা অনেক বেশি ভালো এবং দ্রুত তাই এই ব্যাংকগুলোতে চার্জ হিসাবে একটু বেশি টাকা গ্রাহকদের গুনতে হয়। সেই হিসাবে আইসিআইসিআই ব্যাংকে এতদিন পর্যন্ত নূন্যতম ব্যালেন্স ১০০০০ টাকা রাখতে হতো। কিন্তু বর্তমানে একলাফে অনেকটা টাকা বেড়ে যাওয়ার জন্য গ্রাহকদের কাছে তা অনেকটাই সমস্যা তৈরি করবে। এক্ষেত্রে পুরনো গ্রাহকদের সঙ্গে নতুন যারা গ্রাহক হতে চলেছেন তাদের ক্ষেত্রে সত্যিই চিন্তার বিষয়।

তবে এই শর্ত শুধুমাত্র শহর ও শহরতলীর ক্ষেত্রেই বর্তমানে কার্যকরী হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে।

মফস্বলের ICICI ব্যাংকের একাউন্ট খোল্ডারদের (ICICI bank account holders) ক্ষেত্রে ৫০০০০ টাকা প্রত্যেক মাসে গ্রন্থের না হলেও তাদের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা রাখতে হবে যা আগে ৫০০০ টাকা রাখলেই হতো। এই এলাকার গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও এই টাকাটাও যথেষ্ট বড় একটি অ্যামাউন্ট। আবার যারা গ্রামীণ এলাকায় নতুন গ্রাহক হবেন তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি একটু আলাদা, গ্রামীন এলাকার গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা Balance প্রতিমাসে একাউন্টে রাখতে হবে বলে ঘোষণা জারি হয়েছে।

গ্রামীন এবং মফস্বল এলাকার যারা পুরোনো গ্রাহক তাদের ক্ষেত্রে এই শর্ত কিছুটা হালকা করে ন্যূনতম ব্যালেন্স ৫০০০ টাকা রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে যদি এই পরিমাণ টাকা অ্যাকাউন্টে না থাকে তাহলে ৬% হিসাবে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা তার ওপর চাপবে।

বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ন্যূনতম ব্যালেন্স কত রাখতে হবে?

কিছু বছর আগে সমস্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রেই গ্রাম, শহর এবং মফস্বলের ভিত্তিতে ন্যূনতম একটি অংকের টাকা রাখার কথা বলা হয়েছিল এবং তাতে এটাও বলা হয়েছিল যদি তার থেকে টাকা কম থাকে তাহলে জরিমানা করা হবে।

কিন্তু স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) ক্ষেত্রে ২০২০ সালে ন্যূনতম ব্যালেন্স সংক্রান্ত নিয়ম প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এছাড়াও পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB), কানাড়া ব্যাংক Canara bank) ইত্যাদি ব্যাংক গুলির ক্ষেত্রেও ন্যূনতম অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স জনিত নিয়মটি একই সময়ে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Bank of India) তে এরকম কোন নিয়ম চালু ছিলনা। ‌

অন্যান্য সরকারি অনুমোদিত ব্যাংকগুলিতে কি নিয়ম চালু আছে?

সরকারি অনুমোদিত ব্যাংকের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (UBI) গ্রাহকদের ক্ষেত্রে চেকবুকসহ একাউন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রামে ন্যূনতম ২৫০ টাকা এবং শহর ও শহরতলীতে ১০০০ টাকা ন্যূনতম ব্যালেন্স ধার্য করা হয়েছে। কোন গ্রাহকের যদি চেকবুক না থাকে, তাহলে গ্রামের গ্রাহকদের জন্য ন্যূনতম ১০০ টাকা এবং শহরে ৫০০ টাকা ব্যালেন্স রাখতেই হবে।

ব্যাঙ্ক অফ বরোদার (BOB) ক্ষেত্রে শহর ও শহর তলিতে ন্যূনতম ২০০০ টাকা এবং গ্রামীণ গ্রাহকদের ৫০০ টাকা ব্যালেন্স রাখার নিয়ম ধার্য হয়েছে।

প্রাইভেট ব্যাংক গুলির ক্ষেত্রে কি নিয়ম করা হয়েছে?

প্রাইভেট বেঙ্গলি ক্ষেত্রে প্রথমেই যার নাম আছে তা হল এইচডিএফসি ব্যাংক (HDFC Bank), এর ক্ষেত্রে শহর ও শহরতলীর গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা এবং গ্রামের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ২৫০০ টাকা ব্যালেন্স রাখার কথা বলা হয়েছে।

আইডিএফসি ফাস্ট ব্যাংকের (HDFC fast bank) ক্ষেত্রে শহরের গ্রাহকদের অন্যতম ২৫ হাজার টাকা এবং গ্রামের গ্রাহকদের ১০ হাজার টাকা ব্যালেন্স রাখতে হবে।

অ্যাক্সিস ব্যাংকের (Axis bank) ক্ষেত্রেও ন্যূনতম ব্যালেন্স শহর ও শহরতলীতে ১২ হাজার টাকা এবং গ্রামে গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ২৫০০ টাকা রাখার নিয়ম ধার্য হয়েছে।

সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব, প্রাইভেট এবং সরকারি ব্যাংক উভয়ের ক্ষেত্রে:

এতে অনেকেই প্রাইভেট ব্যাংক থেকে সরকারি ব্যাংকে নিজেদের একাউন্ট সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। তাতে প্রাইভেট ব্যাংকগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়টিও একেবারে ফেলে দেওয়া যায় না যে একটু বেশি টাকা একাউন্টে ফেলে রাখলেও তার টাকা তার একাউন্টেই থাকবে কিন্তু ভালো পরিষেবা

উপসংহার

সমস্ত তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ব্যাংক এমনই একটি সংস্থার যার মাধ্যমে সমস্ত কর্মজীবী মানুষের টাকা-পয়সার লেনদেনের দরকার হয়।

এমনকি বর্তমানে কোন সম্পত্তি কেনা বেচার ক্ষেত্রেও ব্যাংক মধ্যস্থতাকারী একটি সংস্থা হিসেবে কাজ করে। তাই ব্যাংকের পরিষেবা গ্রহণ করা বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে অবধারিত। আবার অনেকে ব্যাংকে টাকা রেখে নিজের শেষ সম্বল হিসাবে, তার কাছে বড় অংকের টাকার নিরাপত্তা বজায় রাখার একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে জমা রেখে প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সুদ হিসাবে গ্রহণ করে নিজের সংসার চালানোর উপায় হিসেবে ব্যবহার করে।

সে ক্ষেত্রে তারা সেভিংস একাউন্টে (savings account) না রেখে সেই টাকাকে কোন স্কিমের মধ্যে সংযোজন করে। ‌ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও প্রতিদিন লেনদেন বাবদ তাদের টাকা স্থানান্তরিত করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাহায্যে দরকার হয়।

এই বেশি অংকের টাকা প্রতিটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে সেভিংস একাউন্টে রাখাটা মানুষের জন্য অলাভ জনক হলেও নিজেদের কাজ চালানোর জন্য ব্যাংকের এই নতুন নিয়ম মেনে চলতেই হবে। অপরদিকে বলা যায় যে ব্যাংকগুলিও নিজেদের ব্যবসা করার জন্যই এই পরিষেবা প্রদান করে থাকে তাই সময়ের সঙ্গে যেভাবে বাজারদর বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যাংকের পরিচালন ব্যবস্থা চালানোর সবকিছু খরচ বজায় রাখার জন্য তাদেরও সার্ভিস চার্জ হিসাবে টাকার বৃদ্ধি করাটা তাদের কাছে জরুরী হিসাবে মনে হয়েছে।

এছাড়াও প্রতিদিন লেনদেন বাবদ বড় অংকের টাকা ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায় যা ব্যাংকের একাউন্ট অনেক সময় শেষ হয়ে যায়। এতে গ্রাহক পরিষেবার ক্ষেত্রে তাদের অনেক অসুবিধা সম্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা ভেবেই ব্যাংকগুলি এই নিয়ম চালু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি ব্যাংক গুলির ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সাহায্য পাওয়ার সূত্র থাকলেও প্রাইভেট ব্যাংকগুলি ব্যবসা নিজেদের দায়িত্বেই করে থাকে।

তাই তাদের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ভালো ব্যাংকিং পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বেশি সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করতে হয় ও তাদের সমস্ত পারিশ্রমিক এই ব্যবসা থেকেই তুলতে হয়। সবকিছু যাতে ভালোভাবে বজায় রাখা যায় সেই জন্যই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এত বেশি পরিমাণ টাকা ন্যূনতম না রাখলেই ব্যাংকের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সুবিধা হতো বলে বেশিরভাগ গ্রাহকদের মন্তব্য থেকে উঠে এসেছে। পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই আবার প্রাইভেট ব্যাংক থেকে একাউন্ট না সরিয়ে যেখানে তাদের একাউন্ট ছিল সেখানেই রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

Bengal Hood

Bengal Hood হলো একটি বিশ্বস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম! যেখানে আমরা বিনামূল্যে চাকরির আপডেট, অনলাইন আয়ের উপায় ও স্কিল টিপস শেয়ার করি। ৬ বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা আপনাকে দিই সঠিক সুযোগ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য।

Leave a Comment