হাইকোর্টের রায়ে বদলে গেল OBC রিজার্ভেশন নিয়ম! ২০০৯ সালের লিস্টই কার্যকর। – OBC Controversy in Bengal

OBC Controversy in Bengal: পশ্চিমবঙ্গে অন্যান অনগ্রসর জাতি (Other Backward Classes – OBC) ক্ষেত্রে সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে বহু বছর ধরে অনেক টানা পড়েন চলার পর শেষে হাইকোর্টের নির্দেশে একটি বড়সড়ো ঘোষণা জারি হয়েছে। এই সংরক্ষণের বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ পশ্চিমবঙ্গের অনেক মানুষই এই সংরক্ষণের মধ্যে তারিখে মুক্ত।

বিভিন্ন কোর্স বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (Institutions) ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে, এমনকি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। এই ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে মীমাংসা না হওয়ার জন্য বহু শিক্ষার্থীদের বহু সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। সেই সমস্যা সমাধান করার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায় জারি করে আপাতত ২০০৯ সালের যে ওবিসি তালিকা কার্যকর ছিল সেটি বর্তমানে কার্যকরী হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন।

২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যে সমস্ত প্রার্থীরা এই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল তারা আপাতত এই সংরক্ষণের সুবিধা পাবে না বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই রায় ঘোষণা হওয়ার ক্ষেত্রে যেমন ২০০৯ সালে আগে তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের সমস্যার সমাধান হয়েছে কিন্তু তার পরবর্তী ক্ষেত্রে যে সমস্ত প্রার্থীরা এই তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন এমন ১৪৪ টি সম্প্রদায় এই তালিকার বাইরে বেরিয়ে যাওয়ায় তারা এই সুযোগ না পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যায় পড়ে গেল।

২০০৯ সালের তালিকায় সংরক্ষণে প্রাথমিক কাঠামো

এই তালিকা অনুযায়ী ১৯৯৩ সালে প্রথমবার রাজ্যে ওবিসি সংরক্ষণ নীতি (OBC Reservation) চালু হয়েছিল। ‌ ২০০৯ সালের তালিকার সংশোধন হয়ে প্রকাশ হওয়ার পর ৬৬ টি সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত হয়, যেখানে সংরক্ষণের হার ছিল ৭%। এই তালিকাতেই এখন আবার কার্যকর করা নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

২০১০ থেকে ২০১২ সালের তালিকায় সম্প্রসারণ ও বিতর্কের সূত্রপাত

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই সময়ে মধ্যে নতুন অনেক সম্প্রদায়কে যুক্ত করেছিল।

ওবিসি বিভাগে দুটি ক্যাটাগরী হয় ওবিসি-এ (OBC-A) ও ওবিসি- বি (OBC-B)। মোট সম্প্রদায়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়ে ছিল ১৪০টির থেকেও বেশি, যেখানে সংরক্ষণের বৃদ্ধি ১৭% তে গিয়ে দাঁড়ায়।

Read More:- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ! কোন কোন নথি দেখালে, নাগরিকত্ব প্রমান হবে?

বিরোধীদল ও অন্যান্য বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের অভিযোগ ওঠে যে সঠিকভাবে যাচাই ছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্যই সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

এই রায় শিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে কি প্রভাব ফেলতে পারে?

পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এর ক্ষেত্রে ভর্তির সময় ওবিসি সংরক্ষণের বেশ কিছুটা সাহায্য পেয়ে থাকে প্রার্থীরা এক্ষেত্রে যারা পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত হয়েছিলেন তারা সেই সুবিধা পাবে না। ফলে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরিবর্তন করতে হবে।

স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগের ক্ষেত্রেও ২০১০-১২ সালে যুক্ত হওয়া ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত প্রার্থীরা বাদ যেতে চলেছেন। অর্থাৎ এই সমস্ত প্রার্থীরা এই সংরক্ষণের সুবিধা আপাতত পাবেন না আর।

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রেও এই সংরক্ষণের বিষয়টির সুবিধা থেকে এই সময়ের যুক্ত হওয়া আবেদনকারীরা সুযোগ থেকে বাদ পড়তে চলেছেন।

আদালত কোন যুক্তি দিয়েছেন এই তালিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে?

হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন সেটি হল-

২০১০ সালের পর যে সমস্ত ব্যক্তিরা এই সম্প্রদায় ভুক্ত হয়েছেন তাদের প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না, অর্থাৎ যথাযথভাবে তথ্য-প্রমাণ যাচাই ছাড়াই সরকারি সমীক্ষা যথাযথভাবে পূরণ না করেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এই পরিবর্তন হয়েছিল অর্থাৎ এই গোষ্ঠীভুক্ত হয়েছিলেন বেশ কিছু মানুষ তাই আদালত সেটিকে যথাযথভাবে তথ্য প্রমাণ ও যুক্তি না পাওয়ার জন্য এই সম্বন্ধে পূর্ববর্তী তালিকা কে গুরুত্ব দিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে শাসক দল সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে নতুন সম্প্রদায় গুলিকে যাতে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় তার চেষ্টা চালাবেন বলে জানিয়েছে এবং যথাযথ চেষ্টা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

বিরোধীপক্ষ বলছে যে এই রায় প্রমাণ করেছে যে সংরক্ষণ নীতি পরিবর্তন রাজনৈতিক স্বার্থে করা হয়েছিল, যেটি অনৈতিক।

সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার ক্ষেত্রে কি হতে পারে?

ওবিসি বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে মামলাটি এখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন আছে, খুব দ্রুতই সম্বন্ধে শুনানি নির্ধারিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

যদি হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে তাহলে ২০০৯ সালের তালিকা টি দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যকর হতে পারে অথবা যদি সুপ্রিম কোর্ট এই আদেশকে স্থগিতাদেশ এ পাঠায় তাহলে ২০১০-১২ সালের সম্প্রসারিত তালিকা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই রায় নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

সাধারণ মানুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম যারা আসে তারা হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী যারা এই বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

তাদের মধ্যে একদল শিক্ষার্থী সংরক্ষণের সুবিধা হারিয়েছে অর্থাৎ যারা ভর্তির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হল তাদের কাছে এটি মোটেও বাঞ্ছনীয় ঘটনা নয় বলে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে।

চাকরি প্রার্থদের ক্ষেত্রে এই সংরক্ষণটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ চাকরির ক্ষেত্রে প্রচুর প্রতিযোগিতা থাক্‌ তার মধ্যে যারা ওবিসির সংরক্ষণের (OBC Reservation) সুবিধা পায় তারা বাকি প্রতিযোগিদের থেকে বিশেষ করে সাধারণ সম্প্রদায় থেকে বেশ কিছুটা এগিয়ে থাকে, কিন্তু যে সমস্ত প্রার্থীরা এই তালিকা থেকে বাদ পড়লেন তাদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগটা হারানোয় তারা যথেষ্ট ব্যথিত।

তবে যারা পুরনো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন অর্থাৎ ২০০৯ তালিকায় যারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তাদের ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট স্বস্তির কারণ অনেক প্রতিদ্বন্দি তাদের সংখ্যা থেকে কমে গেলে তাদেরই সুবিধা বলে তারা যথেষ্ট এই রায়ে খুশি।

সবশেষে বলা যায়, যে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গের সংরক্ষণ নীতি নিয়ে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে যেটি জাতির কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • পুরনো তালিকাভুক্ত সম্প্রদায় গুলির কাছে এটি যথেষ্ট স্বস্তির তবে যারা নতুন তালিকাভুক্ত ছিলেন তাদের ক্ষেত্রে এটা বড়সড় একটি ধাক্কা।
  • যেহেতু বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে আছে তাই ভবিষ্যতেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে কি হতে চলেছে সেটির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

Bengal Hood

Bengal Hood হলো একটি বিশ্বস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম! যেখানে আমরা বিনামূল্যে চাকরির আপডেট, অনলাইন আয়ের উপায় ও স্কিল টিপস শেয়ার করি। ৬ বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা আপনাকে দিই সঠিক সুযোগ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য।

Leave a Comment