এবার বই খুলে পরীক্ষা দিতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা! ২০২৬ এ নতুন নিয়ম চালু। – Open Book Exam

Open Book Examination System in School: বিদ্যালয় পরীক্ষা মানেই আমরা এতদিন জেনে এসেছি এর মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের অধ্যায়নের মূল্যায়ন করার একটি পদ্ধতি। সাধারণত পরীক্ষায় একটি প্রশ্নপত্র দেয়া হয় এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সেই প্রশ্ন অনুযায়ী কোন বই বা নোটস এর সাহায্য ছাড়া নিজের থেকে লিখতে হয়।

কিন্তু এখন থেকে এই পরীক্ষার ব্যবস্থার নিয়মের বদল করতে চলেছে শিক্ষা দপ্তর। আগামী দিনে শিক্ষা দপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে ছাত্র-ছাত্রীদের খোলা বই পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। অর্থাৎ পরীক্ষায় আর না দেখে লিখতে হবে না সামনে বই দেখেই পরীক্ষা দেবার প্রথা চালু হতে চলেছে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এটি চালু হবে।

তবে সূত্র মারফত জানা গেছে যে এখনই সমস্ত শ্রেণীর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি লাগু হবেনা, কোন কোন শ্রেণীর ক্ষেত্রে এটি চালু হতে চলেছে সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। ‌

এই নিয়ম গোটা দেশজুড়ে লাগু হবে। শিক্ষা মহলের যুক্তি যে কেবলমাত্র এতদিন পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা মুখস্ত বিদ্যার মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে এসেছে যা সবায়ের যথাযথ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। কারণ কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের মুখস্ত বিদ্যার মাধ্যমে বেশি নম্বর পাওয়া অন্যান্য যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা পুথিগত মুখস্ত বিদ্যার মাধ্যমে পড়াশোনা করতে পারেনা তাদের সঙ্গে একটা ফারাক তৈরি হয়েছে।

সর্বোপরি, সবাইয়ের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্লেষণের ক্ষমতা, দক্ষতা এবং বিষয়ে কতটা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তার বিষয়টির প্রতি যুক্তি কতটা কার্যকরী সেই বিষয়গুলি ওপর বাস্তব সম্মত জ্ঞান যাচাই করার জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকরী।

মূলত সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা CBSE ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণীতে ওপেন বুক এসেসমেন্ট পদ্ধতিটি চালু করার কথা বলেছে। এই প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষানীতি বা NEP ২০২০ এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন বা NCFSE ২০২৩ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পদ্ধতিটি চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

আসুন জেনে নেই ওপেন বুক অ্যাসেসমেন্ট কি এবং এর উদ্দেশ্যই বা কি?

ওপেন বুক অ্যাসেসমেন্ট এর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা পাঠ্য বই সাথে করে নিয়ে পরীক্ষায় বসতে পারবে এবং সেটি দেখে পরীক্ষায় উত্তর লিখতে পারবে। এক্ষেত্রে পরীক্ষায় প্রয়োগমূলক প্রশ্ন মূলত আসবে, যেটি উত্তর দেওয়ার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের বইয়ের সাহায্য নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

  • এর প্রধান উদ্দেশ্য হল ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে মুখস্ত বিদ্যার গণ্ডি থেকে বাইরে বার করে প্রয়োগমূলক উত্তর কি হবে দিতে হয় সেটিতে অভ্যস্ত করা।
  • তাদের চিন্তন শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করা। যুক্তির মাধ্যমে কিভাবে উত্তর সাজাতে হয় সেটির প্রয়োগ করতে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেওয়া।

ওপেন বুক অ্যাসেসমেন্ট প্রকল্পটি গ্রহণ করার কারণ কি কি?

এই অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতিটি গ্রহণের পিছনে অনেকগুলি উদ্দেশ্য আছে-

বর্তমান উন্নত প্রযুক্তির যুগে মুখস্ত বিদ্যার মাধ্যমে কোন বিষয়কে ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে একটি প্রধান বাধা হিসাবে গণ্য করা হয় কারণ বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির সময় প্রত্যেকেই কিছু না কিছু নতুন তৈরি করছে সেই ক্ষেত্রে বিষয়টিকে বোঝা খুবই জরুরী।

তাই এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি একটি অভিনব পদ্ধতি।

২০২৩ সালে CBSE নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পর্যন্ত বেশ কিছু বিদ্যালয় এই পদ্ধতিটি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছিল, যার থেকে একটি পজেটিভ (Positive) ও ভালো রেজাল্ট (Good result) পাওয়া গেছে।

এতে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের পরিমাণ বৃদ্ধি হয়েছে। প্রয়োগমূলক প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও তারা যথাযথভাবে উত্তর খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছে এতে করে বিষয়টি তার জ্ঞান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করেছে।

এর আগে ২০১৪ সালে একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল কিন্তু আসল রূপ ফল না হওয়ার জন্য এটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার পরবর্তী সময় থেকে পদ্ধতিগত কিছু পরিবর্তন আনায় এটি সাফল্য অর্জন করে।

এই পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা কতটা লাভবান হবে?

আশা করা যায় বর্তমান সময়ে পড়ার যে অতিরিক্ত চাপ শিক্ষার্থীদের মানসিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ তাদের ওপর সব সময় অভিভাবক এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে চাপ থাকে বেশি নম্বর পাওয়ার, যা তাদের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।

সেই জায়গা থেকে এই অতিরিক্ত চাপ কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে এবং শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে বিষয়গুলিকে ভালোভাবে পড়ে তার থেকে প্রয়োগমূলক দিকটি খুঁজে পাবে ও মূল ক্ষেত্রটি বুঝে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।

তার থেকে তার মধ্যে সৃজনশীল কিছু করবার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হবে।

তবে এর কিছু প্রতিবন্ধকতা ও আছে, কি কি?

এই পদ্ধতিটি প্রচলনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন প্রথমে হতে হবে।

যে কোন নতুন পদ্ধতি প্রচলনের আগে বিভিন্ন দিক থেকে সমস্যার সম্মুখীন আমাদের হতে হয়।

পদ্ধতিটি চালু হওয়ার সময় কিভাবে বই থেকে যথাযথ উত্তরটি খুঁজে পেয়ে তার প্রয়োগমূলক ভঙ্গিতে ব্যবহার করতে হবে সেটি শিক্ষার্থীরা প্রথমে বুঝতে অসুবিধায় পড়তে পারে।

বিষয়টি সম্বন্ধে আগে থেকে পড়া থাকলে যত তাড়াতাড়ি উত্তর লেখা সম্ভব হয় এক্ষেত্রে বিষয়টি একটু আলাদা হবে, কারণ প্রশ্ন অনুযায়ী তার প্রায়োগী দিকটি বই থেকে খোঁজে পরীক্ষার্থীদের লিখতে হবে যেটি সময়ের মধ্যে করাটা অভ্যাস না থাকলে অসুবিধাই তৈরি করবে।

শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের নতুন পদ্ধতির মধ্যে অভ্যস্ত হতেও খানিকটা সময় লাগবে।

এই পদ্ধতিতে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের কি ভূমিকা হওয়া উচিত?

নতুন পদ্ধতিটি অনুসরণ করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে সাহায্য করা শিক্ষকদের প্রধান ভূমিকা হওয়া উচিত।

বিভিন্ন কৌশলগত পদ্ধতি শিক্ষকদের উদ্ভাবন করে তার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যেতে হবে যাতে তারা খুব সহজেই বিষয়টির মধ্যে অভ্যস্ত হতে পারে।

এর জন্য শ্রেণীকক্ষে ডেমো কিছু পরীক্ষার আয়োজন শিক্ষকদের করা বাঞ্ছনীয়, যাতে বারংবার পদ্ধতিটির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেতে পারে এবং বিষয়টিকে ভালোভাবে রপ্ত করতে পারে।

অভিভাবকদের ভূমিকা ক্ষেত্রে প্রধান বিষয়টি হবে যে শিক্ষার্থীদের এই পদ্ধতির মধ্যে অভ্যস্ত হয়ে বিষয়টিকে আয়ত্ত করার জন্য তাদের যথাযথ পরিমাণে সাহায্য করতে হবে এবং উৎসাহ তাদের দিতে হবে।

এর প্রভাব আগামী দিনে কি হতে চলেছে সেটি দেখে নেওয়া যাক

এটি একটি নতুন পদ্ধতি যার মাধ্যমে আগামী দিনে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে দেশ জুড়ে। ইতিমধ্যে CBSE এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থাকে চালিয়েছে এবং তারা এই পদ্ধতির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে বেশ কিছুটা, যারা এই পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা এগিয়ে আছে।

তাই বলা যায় যে শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নতি ঘটানোর জন্য শুধু একটি নির্দিষ্ট বোর্ড নয় পুরো দেশের বিভিন্ন বোর্ডের শিক্ষা পদ্ধতি পরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম এক হওয়া উচিত সর্বোপরি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর মানসিক চাপ কমিয়ে শিক্ষাকে আনন্দ উৎস এর সাথে অধিগ্রহণ করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করে উদ্ভাবনমূলক ক্ষেত্রে তাদের অনুপ্রেরণা যোগানো উচিত।

দেশ যখন এক তার পদ্ধতিও সবার ক্ষেত্রে একই হওয়া উচিত তা না হলে কিছু জন এগিয়ে গেলেও বাকি সবাই পিছিয়ে থাকবে এতে ভারসাম্য বজায় থাকবে না।

Bengal Hood

Bengal Hood হলো একটি বিশ্বস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম! যেখানে আমরা বিনামূল্যে চাকরির আপডেট, অনলাইন আয়ের উপায় ও স্কিল টিপস শেয়ার করি। ৬ বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা আপনাকে দিই সঠিক সুযোগ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য।

Leave a Comment